আলোচিত খবর : আবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেন বি চৌধুরী ও ড. কামাল ! নেপথ্যে কি ? বিস্তারিত পড়ুন

২০১২ সালে একবার, পরের বছর আরেকবার ও ২০১৭ সালে দুইবার জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার পর পঞ্চমবারের মতো আবারও জাতীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বুধবার ৯ মে রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে আবারও যৌথ বিবৃতি দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।

কয়েকদফা সম্বলিত এই বিবৃতি বৃহস্পতিবার (১০ মে) গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পাঠানো হতে পারে  বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সিনিয়র রাজনীতিবিদ জানান।

বুধবার (৯ সে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বারিধারা কুটনৈতিক এলাকায় বি চৌধুরীর বাসায় যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. কামাল হোসেন। বি চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন ছাড়াও এ বৈঠকে অংশ নেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আ স ম আবদুর রব প্রমুখ।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান- দেশের চলমান পরিস্থিতি, অরাজক রাজনৈতিক অবস্থা, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন-ব্যাংক লুটপাটের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এই উপলব্ধি থেকেই বিকল্প ধারার সভাপতি বি চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন যৌথ অবস্থান জানিয়ে বিবৃতিতে দেবেন। তারা মনে করেন, দেশের এই সংকটকালে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যমতে আসা দরকার।

এ ব্যাপারে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অধ্যাপক বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন উভয়ে আন্তরিক হয়েছেন।

দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি- খুন, জখম, ধর্ষণ, রাহাজানি, ব্যাংক ডাকাতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিসহ সবকিছু নিয়েই তারা আলোচনা করেছেন। এ পরিস্থিতিতে তারা দু’জন মনে করেন, ঐক্যের কোনও বিকল্প নেই।’

মাহমুদুর রহমান মান্না আরও বলেন, ‘দুই নেতা এ জন্য দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে একসাথে কাজ করবেন। তা এ বিষয়ে অঙ্গীকার করেছেন।’

এদিকে চার দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট সূত্র জানায়, ‘ড. কামাল হোসেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন ওয়ান-টু-ওয়ান। পরে তিনি বৈঠকটি জোটের নেতাদের সামনেই করার আহ্বান জানালে ড. কামাল আজ বারিধারায় যান।’

বৈঠকের ব্যাপারে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘এটা আন-অফিসিয়ালি বৈঠক। সৌজন্যমূলক।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর একজন উপদেষ্টা জানান, ‘বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন দু’জনই দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। তারা দেশের মানুষের কল্যাণ চান। আজকের দিনে একলা আন্দোলনে কিছু যায়-আসে না। তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা মেটাতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনও বিকল্প নেই- এটা তারা উপলব্ধি করেছেন।’

জানতে চাইলে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি, সবার কাছে আমাদের প্রস্তাব ছিল- সবাই মিলে আমরা একটা আহ্বান উপস্থাপন করব। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সেই দাবিটিকে মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে চাই। দু’চার দিনের মধ্যে এটা হয়ে যাবে, আশা করি।’

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘এই আহ্বান রাজনীতিবিদদের মধ্য থেকেও হতে পারে, আবার সুশীল সমাজের তরফ থেকেও আহ্বান জানানো যেতে পারে। এটা সবাই একত্রে দেবেন নাকি আলাদা হবে, এটা ভাবতে হবে।

কিন্তু এটা হয়ে যাবে। মূল বিষয়ে কিন্তু সবাই একমত যে- মানুষ শান্তি চায়, ঐক্য চায়, স্থিতিশীলতা চায়, আইনের স্বাধীনতা চায়, গণতন্ত্র চায়। এজন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’

এদিকে, বৃহস্পতিবার এই বিবৃতি প্রকাশ হলে বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সংখ্যাটি গত এক বছরে তিনবারে গিয়ে দাঁড়াবে। এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট এই দুই নেতা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের ব্যাপারে একমত হয়ে যৌথ বিবৃতি দেন। ওই সময় এ প্রতিবেদককে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, ‘আমরা তো দীর্ঘদিন ধরেই একটি জাতীয় ঐক্যের কথা বলে এসেছি।

এটি যৌথভাবে দিলাম। আর এটি একেবারেই প্রাথমিক আহ্বান, সবাই আমাদের ডাকে আশা করি সাড়া দেবে।’ যদিও ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর চার দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলেও সে জোটে অংশ নেননি ড. কামাল হোসেন। তবে যুক্তফ্রন্টসূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেন ব্যক্তিগত কারণে জোটে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।

এর আগে, ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতেও যৌথ বিবৃতি দেন বি চৌধুরী ও কামাল হোসেন। ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সারাদেশে বিভাগীয় সমাবেশ ও কক্সবাজারে বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশ করার কথা দিয়েছিলেন। যদিও ওইসব বক্তব্য বাস্তবায়নে পরবর্তীতে কোনও ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

২০১২ সালেও হোটেল র‌্যাডিসনে এবং পরবর্তী সময়ে প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও ড. কামাল হোসেন ও বি চৌধুরী জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে দেখা গেছে, বিগত সময়ে ঐক্যের ডাক দিয়ে একাধিকবার পেশাগত কারণে দেশের বাইরে সফরে চলে গেছেন ড. কামাল হোসেন। এবারও তিনি দেশের বাইরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন চার দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্টের একনেতা।

এ ব্যাপারে ড. কামাল হোসেনও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১০ মে) সকালেই আমেরিকার উদ্দেশে বিমানে উঠছেন তিনি। দেশে ফিরবেন কমপক্ষে দু’সপ্তাহ থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে।

আমেরিকা সফরকালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনারারি ডিগ্রি গ্রহণ করবেন তিনি। ২০ মে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার হাতে তুলে দেওয়া হবে এ ডিগ্রি। এরপর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সন্ত্রাসবিরোধী আলোচনা সভায় অংশ নেবেন ড. কামাল হোসেন।

তবে এ কারণে বিবৃতি দিতে সমস্যা হবে না জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার দেশের বাইরে রওয়ানা হলেও বিবৃতি প্রদানে কোনও সমস্যা হবে না। সকালেই তিনি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবেন, নাহলে তিনি তার মতামত জানিয়ে দিয়ে যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীকে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *