গোপন বৈঠক ! আলোচিত এক গোপন বৈঠক ! ব্যারিস্টারের সঙ্গে গোপন বৈঠক ! জানলে অবাক হবেন

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আসামির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের ‘গোপন বৈঠক’ সংক্রান্ত অভিযোগের যাবতীয় তথ্য-উপাত্তের ফাইল এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে। ফাইল পড়ে দেখার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তবে তুরিন আফরোজ তার বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগকে মিথ্যাচার বলেছেন। ট্রাইব্যুনালের কোনো দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার অভিযোগও অসত্য বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ নিয়ে বুধবার (৯ এপ্রিল) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়। আর এ বিষয়টি জানতে আজ বিকাল তিনটার দিকে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর দপ্তরে যান সাংবাদিকরা। তাদের প্রশ্নে মন্ত্রী বিস্তারিত কিছু বলেননি। শুধু বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি ফাইল মন্ত্রণালয়ে এসেছে। সেটি পড়ে দেখার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গত কয়েক দিন ধরে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ ছিল। এ ঘটনার জেরে ট্রাইব্যুনালের সব ধরনের মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। তিনি জানান, তুরিনের কাছে থাকা সব নথিপত্র প্রসিকিউশনে জমা দেওয়ার লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওয়াহিদুলকে মামলার স্পর্শকাতর কিছু তথ্য সরবরাহ করেছেন তিনি। ওয়াহিদুল হককে গত ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠায়।

একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ১১ নভেম্বর মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তুরিন আফরোজকে। এক সপ্তাহ পর তিনি ওয়াহিদুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎ করতে চান। তাকে যেকোনো দিন আটক করা হতে পারে বলেও জানান।

প্রথমে নির্ধারণ হয় ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ওয়াহিদুলের গুলশানের বাসায় সাক্ষাৎ হবে। পরে গুলশানের রেস্টুরেন্ট অলিভ গার্ডেনে সাক্ষাৎ হয়।

এই বিষয় অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার নজরে এলে তুরিন আফরোজকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। পাশাপাশি শুরু হয় তদন্ত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আমাকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সত্য নয়। আমি এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে বহাল আছি। আমাকে কেউ বরখাস্ত করেনি।’

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার ছিলেন আইনজীবী তুরিন আফরোজ। ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে জামায়াতের আমির একাত্তরের খুনি বাহিনী আলবদরের প্রধান মতিউর রহমান নিজামী এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় জোরাল অবস্থান নেন তুরিন আফরোজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *