ব্রেকিং : আশঙ্কা ! যে কারণে জাতীয় নির্বাচনও স্থগিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার

নির্বাচনি এলকার সীমানা পুননির্ধারণী জটিলতা নিয়ে রিট করলে গাজীপুরের মতো জাতীয় নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন ২৫টি আসনে সীমানা পুননির্ধারণ করেছে। এখন সেটা নিয়ে যদি কেউ রিট করে তাহলে জাতীয় নির্বাচনও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেডেন্টে খালিদ মহিউদ্দিনের উপস্থাপনায় আজকের বাংলাদেশে ‘নির্বাচন ও আদালত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীও (মানিক) মনে করেন, আইন অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের সময় এমনটা হলে রিট করলে নির্বাচন বন্ধ হওয়া সম্ভব। তবে তার মতে, এমনটা হলে সেক্ষেত্রে সেফটিবাল্ব অর্থাৎ আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সাবেক এই বিচারপতি এ বিষয়ে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে যদি কোনো উল্টাপাল্টা কিছু করা হয় তাহলে সেখানে হস্তক্ষেপ করা (আদালতের) দায়িত্ব হয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে একটি রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন সঞ্চালক।

এসময় সঞ্চালক খালেদ মুহিউদ্দীন সংবিধানের ১২৫ (গ)ধারার কথা পড়ে শোনান। যেখানে বলা আছে, কোন আদালত, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হইয়াছে এইরুপ কোন নির্বাচনের বিষয়ে, নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া, অন্তর্বর্তী বা অন্য কোনরূপ কোনও আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিবেন না।

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত বলেন, আমি এখন সাধারণ মানুষ। আদালত তার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু আর মাত্র নয়দিন বাকি, ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে, মানুষজন সব মাঠে নেমে গেছেন।

অনেক কাজ এগিয়েছে সে অব্স্থায় আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে কিভাবে তারা এই অবস্থার মধ্যে তফসিল ঘোষণা করছে সেটা জানতে চাইতে পারতেন। এমন অবস্থা ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতের সময়ও হয়েছিল। তখনও এমনটি হয়েছিল।

উপস্থাপক জানতে চান তাহলে কি নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ বা তৎপরতায় ঘাটতি দেখছেন?

উত্তরে সাখাওয়াত বলেন, আমি এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অবস্থা একদম শিথিল দেখছি। শুধু এই ঘটনা নয়, এমনটা আগেও ঘটেছে। ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন স্থগিতের সময়ও দেখেছি। গাজীপুর সেটার কার্বন কপি। আমি তখন অনেকবার বলেছি, কমিশনের উচিত ছিল তাদের অধিকারটা প্রতিষ্ঠিত করা।

সাবেক নির্বাচনের কমিশনারের মতে, তাদের (ইসি) বলা উচিত ছিল- নির্বাচন স্থগিত হয়েছে তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শোন হয়নি সে কথাটা বলা। কিন্তু তখন তারা মনে হয় একমাস পরে আপিল বিভাগে গিয়েছিলেন তবে তা এখন কোনো পর্যায়ে আছে তা কেউ জানে না।

তিনি বলেন, ‘এতে হয় কি, নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়। তারা জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। হাইকোর্ট স্থগিত করেছে তার ওপরে তো আপিল বিভাগ আছে। সেখানে না হলে তো চেম্বার আদালত আছে। তারা হয়তো কোনো বেঞ্চে পাঠাবে। গাজীপুর নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর সেটা চাইলে আজকেও যেতে পারে।

দু দিন পরেও যেতে পারে। কিন্তু সেটা না করে আপনি যদি বলেন পুরো কাগজপত্র আসার পরে যাবেন। তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করলেন?

সাখাওয়াতের বক্তব্যের বিষয়ে বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, গাজীপুর নির্বাচন স্থগিত নিয়ে রিটের বিষয়ে হাইকোর্ট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সেটা কিন্তু চূড়ান্ত নয়। মাত্র রুল জারি করেছে।

রুল জারির পর ভোটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই কারণে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর শুনানী হবে। তবে সবার তো অধিকার আছে আপিল বিভাগে যাওয়ার। এমনও তো হতে পারে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দিতে পারেন।

সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন বলেন, তফসিল ঘোষণার পর কোনো বিবাদ দেখা দিলে নির্বাচন কমিশনের কাছে যাবো। কোনো রিট গ্রহণ করা হবে না এমন একটা সিদ্ধান্ত সুপ্রীমকোর্টের আছে। কিন্তু এটা একটা প্রাকটিস (চর্চা)। তাই বলে রিট করা যাবে না এ ধরণের কোনো বিধান কোথাও নেই, তা হতেও পারে না।

তবে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন চাইলে একদিন পরেই আপিল বিভাগে যেতে পারতেন বলে মনে করেন সাবেক এই বিচারপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *