ব্রেকিং : গাজীপুরে ভোট স্থগিত – সুরুজের রিটের আইনজীবী ছিলেন মওদুদও ! নেপথ্যে কি ?

যার রিট আবেদনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন স্থগিত হয়েছে, মাসখানেক আগে তার আরেকটি রিট আবেদনে আইনজীবী ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদও। তবে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে সেই রিট আবেদন উচ্চ আদালতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়ে যায়।

ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার সভারের শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজের ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয় ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। এরপর থেকেই তিনি আইনি লড়াইয়ে ছিলেন। একাধিকবার তিনি উচ্চ আদালতে এসেছেন।

রবিবার সুরুজের রিট আবেদনের আগে ১০ এপ্রিল তিনি আরেকটি আবেদন করেন। সে সময় তার আইনজীবী ছিলেন মওদুদ আহমদ।

সুরুজের রিটে রবিবার গাজীপুরে ভোট তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর বিএনপি এর পেছনে সরকারের কারসাজির অভিযোগ করেছে।

তাহলে এমন একটি রিট আবেদনে মওদুদ আহমদের আইনজীবী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘ওই রিট আমি ফেরত নিয়ে নিয়েছিলাম। আমি যখন বুঝতে পারলাম এই রিটটা করা হচ্ছে গাজীপুরের নির্বাচন বন্ধ করার জন্য। তখন আমি এটা রিটার্ন নিয়ে নিলাম।’

‘আমি যখন শুনানির জন্য রিটটি নিয়েছিলাম তখন অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানির জন্য তিন দিন সময় নিয়েছিলেন। বার বার সময় নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল শক্তভাবে বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, এটা করলে গাজীপুর নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাবে।’

‘তখন অ্যাটর্নি জেনারেলকে বললাম যে, আমি গাজীপুর নির্বাচনের জন্য এই পিটিশন আমি উইথড্রো (প্রত্যাহার) করছি, এটা আমি প্রেস করব না। ওই পিটিশন, ওই নম্বরের কোনো নাম গন্ধ এখন নাই।’

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এখন আমি শুনলাম নতুন করে আর একটা পিটিশন করেছে। এখানে অ্যাটর্নি জেনারেল তো যায়ই নাই, কোনো আপত্তিও করে নাই। সরকারও কোনো আপত্তি করে নাই। নির্বাচন কমিশনের যে একজন আইনজীবী ছিলেন, সে কিছু বলতেও পারে নাই। শুনলাম রুল ইস্যু হয়ে গেছে।’

মওদুদের দাবি, এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে সরকার।

‘এটা পরিষ্কার সরকার এটার ইন্ধন যুগিয়েছে। তাদের পরাজয় অবধারিত জেনে কাজটি করিয়েছে।’

রবিবার সুরুজের রিটে বিরোধিতা করেছেন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুর রহমান। আপনারা আদালতে কী বলেছেন-এমন প্রশ্নে এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি একই বিষয়ে হাইকোর্ট ইতোপূর্বে মামলাটি নিষ্পত্তি করেছেন। তাই এ বিষয়ে পুনরায় মামলা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আদালত তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করে রুল জারি করেন।’

রিটে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান বলেন।

মওদুদ বলেন, ‘এবারের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল গেলেন না কেন? দেড় মাস আগে এটা যখন মুভ করা হয়েছিল তখন অ্যাটর্নি জেনারেল তখন তিন দিন সময় নিয়েছিলেন কোর্টের কাছ থেকে। তিনি শক্তভাবে বিরোধিতা করেছিলেন। আজকে উনি গেলেন না কেন?’

একটি বিষয়ে দ্বিতীয় বার রিট করা যায় কি না- জানতে চাইলে মওদুদ বলেন, ‘করতে পারে, ওটার উপরতো কোনো গেজেট হয় নাই।’

‘নতুন নতুন আইনজীবী বেরিয়েছে আজকাল। যেটা হওয়া উচিত না, এটা করতে পারে না, তার এটা রিজেক্টেড হওয়ার পরেও তারা গিয়ে আর একটা নতুন পিটিশন করল।’

এদিকে রিটকারী শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ জানিয়েছেন, তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতের জন্য উচ্চ আদালতে যাননি। তিনি চেয়েছিলেন তার ইউনিয়নের যে ছয়টি মৌজা সিটি করপোরেশনে গেছে, সেসব মৌজায় যেন ভোট না হয়।

হাইকোর্টের আদালতের আদেশের রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত রায়ের কপি দেখে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

গাজীপুরে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমও জানিয়েছেন, তিনি আপিল করবেন এই আদেশের বিরুদ্ধে।

আগামী ১৫ মে ভোট হওয়ার কথা ছিল গাজীপুরে। একটি দিন ভোট হবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *