ব্রেকিং : জরুরি ব্রিফিং ডেকে ২৩ মিনিট পর স্থগিত করলো বিএনপি – নেপথ্যে কি ?

জরুরি ব্রিফিং ডাকার ২৩ মিনিট পর তা স্থগিত করেছে বিএনপি। রোববার সন্ধ্যা ৫টা ৪২ মিনিটে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৭টায় জরুরি ব্রিফিং হবে। ব্রিফ করবেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

কিন্তু এর ২৩ মিটিন পর ৬টা ৫ মিনিটে আরেকটি বার্তা পাঠানো হয়। এতে দুঃখ প্রকাশ করে দলটির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত রুহুল কবীর রিজভী জানালেন ব্রিফিং স্থগিত করা হয়েছে।

খালেদার বিশ্বাস ৮ মে জামিন পাবেন

আগামী ৮ মে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে শুনানি রয়েছে তার বিশ্বাস তাতে তিনি জামিন পাবেন। কারাবন্দি এই নেত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে শক্তিশালী আছেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে ৪টায় পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান তার পাঁচ আইনজীবী। এতে নেতৃত্ব দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। এসময় তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক শলাপরামর্শ করেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে তার জামিনের বিষয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, জামিনের বিষয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) জানতে চাইলেন, ‘কী অবস্থা?’ আমরা তাকে বলেছি, দেশে যদি বিন্দুমাত্র আইনের শাসন অবশিষ্ট থাকে তাহলে হাইকোর্ট যে রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করে তাকে জামিন দিয়েছেন, সেই জামিন সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ স্থগিত করার নজির নেই। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট যেকোনও কারণেই হোক তার জামিন স্থগিত করেছেন। ৮ মে শুনানির দিন রয়েছে, আমরা আশা করি, ইনশাল্লাহ দেশে যদি বিচারের বিন্দুমাত্র পথ এখনও খোলা থাকে, তাহলে অবশ্যই আমাদের চেয়ারপারসনকে জামিন দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি আমাদের বলেছেন, ‘আমাকে রাজনৈতিক কারণে জেলে রাখা হয়েছে, হয়তো সাজা দিয়েছে, সেখানে আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। কোনও চেকে আমি সাইন করিনি। অযথা আমাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ।’

তিনি বলেন, মানবিক কারণে হলেও বেগম জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত। এটা না করা সরকারের অমানবিক আচরণ। এ কারণে মনক্ষুন্ন হয়েছেন। কিন্তু তিনি মনোবল হারাননি। এখনও বিশ্বাস করেন, মিথ্যে মামলায় দেওয়া সাজা বাতিল হবে এবং তিনি জামিন পাবেন।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা আইনজীবীরা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। জেল কর্তৃপক্ষের সুপারিশের পরেও আমরা যা জানতে পারলাম, তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে সরকার গরিমসি করছে।’

তিনি বলেন, ‘এ কারণে তার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। সবচেয়ে বড় হচ্ছে, চেয়ারপারসনের ফিজিওথেরাপি করা দরকার জরুরিভিত্তিতে। জেলখানায় ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা নেই। তার চিকিৎসকেরাও ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন।’

খন্দকার মাহাবুব হোসেন এর নেতৃত্বে অন্যদের মধ্যে রেজ্জাক খান, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন এবং মাহবুব উদ্দিন খোকন আইনজীবী প্রতিনিধি দলে ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *