ব্রেকিং : ফাঁস ! ফাঁস ! শুনানি শেষে এইমাত্র খালেদাকে জামিন না দেওয়ার কারণ ফাঁস করে দিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ

নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ।

মঙ্গলবার (৮ মে) হাইকোর্টে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জামিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মুওদুদ আহমেদ বলেন, আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই বেগম জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। তাঁর জনপ্রিয়তার করণে মিথ্যা মামলায় আজ তিনি জেলে। আজকের মতো শুনানি মুলতবি ঘোষণা করেছে আদালত। আগামীকাল বুধবার আবার শুনানি শুরু হবে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার সামাজিক অবস্থান এবং বয়সের কথা বিবেচনা করে মাননীয় আদালত তাঁকে জামিন দিবেন বলে আমরা আশাবাদী।

শুনানি চলাকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল বুক পেপারের বিষয়ে যে কথা বলেছেন তা অপ্রাসঙ্গিক। এসময় বুক পেপারের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে আজ সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিলের (লিভ টু আপিল) ওপর শুনানি বুধবার (৯ মে) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, হাইকোর্ট কম সাজার বিষয়টি উল্লেখ্য করে জামিন দিয়েছেন, কিন্তু দণ্ড দেয়ার পর জামিনের জন্য কম সাজার বিষয়টি বিবেচনায় আসবে না।

তিনি মাত্র ৩ মাস হলো বন্দি রয়েছেন। বন্দির সময়টা যদি দুই বা আড়াই বছর হয় তবে জামিনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে।

বয়স ও অসুস্থতা নিয়ে খুরশিদ আলম বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত হলে জামিনের জন্য বয়সটা বিবেচনায় আসবে না। আর অসুস্থতার বিষয়টি জেলকোট অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে তিনি বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া। কিন্তু একই মামলায় তাঁকে কম সাজা আর বাকীদের বেশি সাজার বৈষম্য করা হয়েছে। হয় সবাইকে ৫ বছর অথবা সবাইকে ১০ বছর সাজা দেয়া উচিত।’

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে পরের দিন রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আবেদন করে। ওইদিন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর জামিন আদেশ স্থগিত না করে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে এবং পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে আসামিপক্ষকে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত।

একই সঙ্গে এ আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত বলে আদেশে বলেন আদালত।

এর আগে একই মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকেই খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে আছেন। এদিকে কারাবন্দী হিসেবে খালেদা জিয়ার তিন মাস পূর্ণও হবে আজ।

‘বিএনপি চায় না বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক’

বিএনপি চায় না বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতারা বলেছেন বেগম খালেদা জিয়া জেলে থাকলে প্রতিদিন তাদের ভোট বাড়ে। যে নেতারা মনে করেন খালেদা জিয়া জেলে থাকলে তাদের ভোট বাড়ে। তারা নিশ্চয়ই চাইবে না বেগম জিয়া জামিন নিয়ে জেল থেকে বেড়িয়ে আসুক।

উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন প্রার্থনা বিএনপির পক্ষ থেকে নাটক মঞ্চস্থ ছাড়া কিছুই না। তারা বেগম জিয়ার মুক্তি প্রার্থনার প্রতি আন্তরিক নয়।

মঙ্গলবার (৮ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতি জোট আয়োজিত কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *