ব্রেকিং : হটাৎ জরুরি সংবাদ সম্মেলনে যে চিত্র তুলে ধরবে বিএনপি

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ মে) গুলশানের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি জানাবে দলটি।দেশের আর্থিক খাতের দুরবস্থা ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরবে বিএনপি। বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, আগামী জুনে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখেই আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যাংক সেক্টর ও অর্থ লুটপাটকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ ও দলীয় নেতারা এ কাজ শেষ করে এনেছেন। অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহও এ কাজে যুক্ত আছেন।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনের আগে ইশতেহার তৈরির আগে দেশের বিভিন্ন খাতভিত্তিক পর্যালোচনা করবে বিএনপি। পরবর্তীতে শিক্ষা ও প্রশাসনসহ আরও নানা বিষয়ে দলীয় গবেষণা ও অবস্থান তুলে ধরা হতে পারে।

মঙ্গলবার দিবাগত মধ্য রাতে এ বিষয়ে জানতে বিএনপির একাধিক নেতাকে ফোন করা হলেও তারা কেউ রিসিভ করেননি।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, ‘ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিশেষ করে গত দুই বছরে ব্যাংক সেক্টরের অস্থিরতা, সরকারি লোকদের যুক্ততা এবং বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে। এ কাজ করতে গিয়ে দেশে-বিদেশে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার গুলশানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হতে পারে। তবে দিনের কোন সময়ে সংবাদ সম্মেলন হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কেসিসি নির্বাচন: ইভিএম ও সিসি ক্যামেরা থাকবে যেসব কেন্দ্রে

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে দুটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ও তিনটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর আগে ২০১৩ সালের নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডে ইভিএম পদ্ধতি ছিল।

কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেসিসি’র ২৪ ও ২৭নং ওয়ার্ডের ২টি কেন্দ্রে ইভিএম স্থাপন হবে। এ কেন্দ্র দুটি হচ্ছে- ২৪নং ওয়ার্ডের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০৬ নম্বর) ও ২৭নং ওয়ার্ডের পিটিআই জসিম উদ্দিন হোস্টেলের নীচতলা কেন্দ্র (২৩৯ নম্বর)। সোনাপোতা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৪টি বুথে ইভিএম থাকবে।

এর মাধ্যমে ১ হাজার ৯৯ জন নারী ভোট দিতে পারবেন। এ কেন্দ্রে শেরে বাংলা রোড (রায়পাড়া থেকে নিরালা পর্যন্ত), ইকবাল নগর মসজিদ রোড, শেরে বাংলা রোড (দক্ষিণ পাশ-ময়লাপোতা থেকে রায়পাড়া পর্যন্ত) এলাকার ভোটার ইভিএম-এ ভোট দিতে পারবেন।

পিটিআই জসিম উদ্দিন হোস্টেলের নীচতলা কেন্দ্রের ৬টি বুথে বিকে মেইন রোড (আংশিক) দক্ষিণ পাশের ১ হাজার ৮৭৯ জন পুরুষ ভোটার ইভিএম-এ ভোট দিতে পারবেন।’

এছাড়া ৬নং ওয়ার্ডের সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের কলা ভবন কেন্দ্র, ২২নং ওয়ার্ডের পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিটিআই প্রশিক্ষণ ভবন (২য় ও ৩য় তলা) কেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরা।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ২৮৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ৫৬১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৩ হাজার ১২২ জন পোলিং অফিসারসহ মোট ৫ হাজার ২২১ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে সরকারি বিএল কলেজে এ সব কর্মকর্তাদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হবে।

এদিকে বুধবার (৯ মে) সন্ধ্যায় খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম নির্বাচন কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

তিনি মঙ্গলবার (৮ মে) বিকালে খুলনায় পৌঁছান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার উপস্থিত থাকবেন।

কেসিসি নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ২২ জন, গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে ২৪ জন দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও ৩১টি ওয়ার্ডে পুলিশের ৩১টি টিম এবং ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে।

র্যা্বের ৩২টি টিম টহল দেবে। বিজিবি থাকবে ১৬ প্লাটুন। ৬০ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। বিজিবির প্রতিটি টহল দলের সঙ্গে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, যারা তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মো. মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

এছাড়া ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোট কক্ষ ১ হাজার ৫৬১টি ও অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৫৫টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *